বাংলাদেশ থেকে পড়তে আসা মেয়েরা পতিতাবৃত্তি নয় ক্যারিয়ার গঠন করছে ব্রিটেনে

কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা বিশ হাজারেরও অধিক। অধিকাংশ ছেলেমেয়েরাই বিএ অনার্স বা বিএসসি,মাস্টার্স বা এমএসসি, বার অ্যাট ল কিংবা পিএইচডির মতো ডিগ্রী নিতে ইংল্যান্ডের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেন। পৃথিবীর স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান চলমান নারীর ক্ষমতায়নে ইংল্যান্ডে পড়তে আসা মেয়েদের সংখ্যাও কম নয়। এই বাংলাদেশী মেয়েরা নিজ যোগ্যতায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের মেধা এবং অধ্যবসায়ের ফলাফল হিসেবে চান্স পায় ইংল্যান্ডের বিভিন্ন নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ডিগ্রি নিয়ে বিভিন্নজন পৃথিবীতে মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছেন। বাংলাদেশের ছাত্র ছাত্রীরাও নিজেদের মেধা এবং মননশীলতার পরিচয় দিয়ে এসব নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো রেজাল্ট করে বাংলাদেশের সুনাম বিশ্ব পরিমণ্ডলে অক্ষুন্ন রেখেছে। অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা আছে, যারা ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা শেষ করে নিজ যোগ্যতায় নিজেদের ডিপার্টমেন্টেই লেকচারার হিসেবে নিজেদের ক্যারিয়ার শুরু করছে তার সংখ্যাটাও দিন দিন বাড়ছে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে গ্রেজুয়েশন শেষ করে অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যারা ফুল ফান্ড স্কলারশিপ পেয়ে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নামিদামি ইনস্টিটিউটগুলোতে পড়তে আসেন।
প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য ইংল্যান্ডে পাড়ি জমাচ্ছেন। যারা সুজলা সফল শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান নিজেদের ক্যারিয়ার গঠন করতে। ইংল্যান্ডে নেমেই তারা প্রথমে যেই সমস্যার সম্মুখীন হন সেটা হচ্ছে বাসস্থান।
ইংল্যান্ডের বাসস্থান কিংবা একমুডেশন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে রুম শেয়ার করে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করেন। অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ইংল্যান্ডে সেডেল্ড থাকা সত্ত্বেও তাদের পারিবারিক নানান সমস্যার কারণে সেই বাসস্থান টুকুর সুধিধাও ভালো করে পাচ্ছেন না। অনেকের আপন ভাই বোন ইংল্যান্ডে থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে রুম ভাড়া করে অন্যত্র কাজ করে নিজেদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ইংল্যান্ডে যারা বসবাস করেন এসব নির্মম বাস্তবতা সবার সামনেই ঘটতেছে।
একজন মেয়ে যখন উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য নিজ জন্মভূমি ত্যাগ করে বিদেশে নিজেদের ক্যারিয়ার ডেভেলপ করার জন্য নিজেদেরকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য,দিন-রাত পরিশ্রম করে কাজ করে নিজেদের লেখাপড়া টিউশন ফি জোগাড় করে,নিজেদের বাসস্থানের অর্থ জোগাড় করে নিজের খরচ মিটিয়ে বাংলাদেশে থাকা পরিবারকেও সাহায্য করে ,এই সমস্ত ঘটনা কি আপনাদের চোখের সামনে পড়ে না? হলুদ সাংবাদিকতার কারণে নিজেদের সাবস্ক্রাইব এবং ভিউ বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে পড়তে আসা মেয়েরা পতিতাবৃত্তি করে নামক টাইটেল ব্যবহার করে এইসব কুৎসিত,বিকৃত নিউজ বানিয়ে আপনারা ঢালাওভাবে প্রচার করছেন আপনাদের কাছে এর কি সত্যতা আছে?
একটা মেয়ে যখন নিজের টিউশন ফি অথবা নিজের জীবন চালানোর জন্যে ইংল্যান্ডে কারো সাহায্য ছাড়াই দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, অন্যদিকে আপনারা নিজেদের ভিউ বাড়ানোর জন্য মানসম্মান হানিকারক নিউজ করে তাদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছেন বলে কি আপরাদের মনে হয়না?
বাংলাদেশে অনেক পরিবার আছে যারা এমনিতেই তাদের মেয়েদেরকে বিদেশে পড়তে দিতে চায় না, যখন আপনাদের এরকম বিকারগ্রস্ত নিউজ দেখার পর তারা একজন মেধাবী সৃজনশীল ছাত্রীকে বিদেশে লেখাপড়া করার জন্য বাধা দিবে তখন এর দায়ভার কে নেবে?
মজার বিষয় হচ্ছে যেসব মানুষ এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো আমাদের কমিউনিটিতে ভাইরাসের মতো ছড়াচ্ছে, একটা সময় তারাই কিন্তু এই স্টুডেন্ট ভিসায় ইংল্যান্ডে এসে সেটেল্ড হয়েছে।
অথচ! বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীরা কতটুকু কষ্ট করছে নিজেদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য তার প্রমাণ আপনারা বাঙালি অধ্যুষিত এলাকার বিভিন্ন দোকান, রেস্তোঁরা কিংবা শপিংমল গুলোতে গেলেই দেখতে পাবেন। কারো কাজের পারমিশন কম থাকায় তারা ক্যাশে জব করছে, কেউ বা নিজেদের মোটা অংকের টিউশন ফি পরিশোধ করার জন্য দুইটা কিংবা তিনটা কাজও করতেছে। বাংলাদেশ থেকে পড়তে আসা ছেলেমেয়েদের এই অমানুষিক কষ্ট কি হলুদ সাংবাদিক ভাইদের চোখে পরে না?
পরবেই বা কেমন করে! যারা সারাদিন ভিউ বাড়ানোর ধান্দায় থাকে! যারা নিজেদের ভিউ বাড়িয়ে টাকা ইনকাম করার ধান্দায় থাকে! যারা নিজেদের আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে সাবস্ক্রাইব বাড়ানোর ধান্দায় থাকে! তারা ত মস্তিষ্ক বিকৃত নিউজ করবেই। তাদের জন্যেই আজ সমাজ কিংবা কমিউনিটির মানুষদের আস্থার জায়গা গুলো হারাচ্ছে সাংবাদিকতা।
ইংল্যান্ডের এমন বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কত কষ্ট করে কাজ করছে বাংলাদেশ ছাত্রছাত্রীরা, তার উপলব্ধি আপনারা তাদের সাথে না মিশলে বুঝতে পারবেন না। এরকম অনেক ছাত্রী আছে যারা কোনদিন মায়ের আঁচল থেকেই বের হয় নাই, আজকে তারা বিভিন্ন ওয়্যার হাউজে কাজ করে বড় বড় বস্তা টানছে,দিনশেষে মাকে ফোন দিয়ে হাসিমুখে বলছে ভালো আছি মা। তাদেরকে আপনারা পতিতাবৃত্তি করতেছে বলছেন?
এইসব ফালতু বিকারগ্রস্ত নিউজ এর কারণে যদি কোন মেয়ে তাদের উচ্চশিক্ষা লাভ থেকে বঞ্চিত হয় তার দায়ভার অবশ্যই আপনাদের নিতে হবে।
এই ইংল্যান্ডের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশ থেকে পড়তে আসা মেয়েরা বড় বড় ডিগ্রি লাভ করে আজকে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পতাকাকে এক সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে গেছে তার সংখ্যাটাও কম নয়।
আপনারা আজ যেই মেয়েদের দিকে আঙ্গুল তুলে নিউজগুলো করতেছেন,তারাই একদিন নীতি নির্ধারণের জায়গায় গিয়ে বসবে,তখন কি আপনাদের এইসব ভ্রান্ত ফালতু নিউজগুলো করার কারণ দর্শাতে পারবেন?
তর্কের খাতিরে যদি মেনেই নেই দুই-একজন মেয়ে ভুল পথে পা বাড়িয়েছে,তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য আপনাদের ভূমিকা কি ছিলো সেটাও সবার সামনে পরিষ্কার করা দরকার?
ঢালাওভাবে ভ্রান্ত নিউজ করলেন আর আপনাদের দায় সেরে গেল? না নিতান্তই আপনারা ভুল ভাবছেন! কমিউনিটির সেবা এভাবে দিতে হয় না,আপনাদের এসব ফালতু নিউজে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, তা কি আদৌ আপনাদের বোধগম্য হচ্ছে? যে মেয়েগুলা বাংলাদেশ থেকে এসে ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় নিজেদের রক্তকে পানিতে রুপান্তর করে নিজেদের মেধা এবং যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে নিজের জায়গা দখল করে নিচ্ছে তাদের সাথে প্রতিযোগিতা নয় বরং সহযোগিতা করুন,তাহলেই দেখবেন আমাদের বাংলাদেশের পতাকাকে তারা সম্মানজনক এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।