আগৈলঝাড়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণ; থানায় মামলা দায়ের

আগৈলঝাড়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণ; থানায় মামলা দায়ের

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ইজি বাইক চালকের স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বড়মগরা গ্রামের এক ইজিবাইক চালকের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে ইজিবাইক চালকের বাড়িতে অবাধে যাতায়াত ছিল একই গ্রামের সুধীর রঞ্জন অধিকারীর ছেলে সঞ্জয় অধিকারীর (৩০)। যাতায়াতের সুযোগে সঞ্জয় ওই ইজিবাইক চালকের স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলাসহ কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। 

সঞ্জয়ের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ২০২২ সালে ১৭ নভেম্বর দুপুরে বাড়ি খালি থাকার সুযোগে সঞ্জয় কোমল পানিওর সাথে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে জোর করে ওই গৃহবধূকে ধর্ষন করলে তখন সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফেরার পরে ওই নারী বুঝতে পারেন যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। 

ধর্ষনের শিকার গৃহবধূ জানান, এই ঘটনার ৬-৭ দিন পরে সঞ্জয় পুনরায় আমার বাড়িতে গিয়ে তার নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে আমাকে পূর্বের ধর্ষনের ভিডিও এবং নগ্ন ছবি ধারন করা আছে জানিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকার ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ধর্ষক সঞ্জয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বিষয়টি তার স্বামীকে জানান তিনি। ধর্ষিতার স্বামী ধর্ষককে ডেকে ঘটনা জিজ্ঞাসা করলে ধর্ষক সঞ্জয় ধর্ষিতার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেয়। এঘটনার জের ধরে ২০২২ সালের ২২ ডিসেম্বর সকালে ভুক্তভোগী নারী তার নয় বছরের ছেলেকে বাড়ির পাশ থেকে ডেকে আনতে গেলে সঞ্জয়ের স্ত্রী তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে ডান হাত ভেঙ্গে দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসার পরে নির্যাতীতা নারী ধর্ষক সঞ্জয় ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বাদী হয়ে ৩ জানুয়ারী থানায় ধর্ষন ও মারধরের মামলা দায়ের করেন। 

মামলা দায়েরের পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল বেরুনী গত বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্ষিতা গৃহবধূকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।