ইতালি উপকূলে নৌকা ডুবে ৬৩ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

ইতালির দক্ষিণের উপকূলে নৌকা ডুবে শিশুসহ শতাধিক অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নৌকাডুবির ওই ঘটনায় অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
নিহতদের মধ্যে ১২টি শিশুও রয়েছে। ক্রোতোনের কাছে তীরে ওঠার চেষ্টা করার সময় ভেঙে পড়া নৌকাটি দুইশর মতো লোককে বহন করছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নৌকায় করে অভিবাসন প্রত্যাশীদের এমন চোরাগোপ্তা যাত্রা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
দিনকয়েক আগে তুরস্ক থেকে যাত্রা করা নৌকাটিতে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরাক ও ইরানের নাগরিকরা ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাজে আবহাওয়ার কারণে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওই নৌকাটি ডুবে যায় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে। কালাব্রিয়া অঞ্চলে সমুদ্রের ধার ঘেঁষে থাকা একটি রিসোর্টের সৈকত থেকে অনেক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইতালির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ৮০ জনকে জীবিত পাওয়া গেছে।
“এদের মধ্যে তারাও আছে, যারা নৌকা ডুবে যাওয়ার পর সাঁতরে তীরে আসতে পেরেছেন,” বলেছে তারা।
জীবিত উদ্ধার একজনকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বলেছে শুল্ক পুলিশ।
নৌকাটিতে যারা ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই পাকিস্তানি বলে ধারণা পাওয়া গেছে।
সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, নিহতদের মধ্যে দুই ডজনের বেশিই পাকিস্তানের নাগরিক বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসোলা দি কাপো রিজুতো শহরের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে থাকা জীবিতদের অনেককেই কোনো কথা বলা ছাড়াই কাঁদতে দেখা গেছে, কম্বলে শরীর মোড়ানো কেউ কেবল শূন্যে তাকিয়ে আছেন।
“তারা ভয়াবহ ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো শিশু তাদের পুরো পরিবার হারিয়ে ফেলেছে। আমরা যা যা পারছি, সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছি,” বলেছেন মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ারসের সের্গিও দি দাতো।