রংপুরের কাছে হেরে সাকিবের বরিশালের বিদায়

রংপুরের কাছে হেরে সাকিবের বরিশালের বিদায়

টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প কিছু ছিল না কোনও দলের। তাই এলিমিনেটর ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনাকর। তরুণ ব্যাটার শামীম হোসেন পাটোয়ারির দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ৩ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় রংপুর রাইডার্স।

এই জয়ে সোহানের দল ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আরও একটি সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে রংপুরের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে সাকিব আল হাসানের বরিশাল।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দারুণ শুরুর পরও খুব বেশি বড় স্কোর পায়নি ফরচুন বরিশাল। একবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুরকে দিতে পারে ১৭১ রানের লক্ষ্য। মাঝারি মানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে রংপুর প্রথম ওভারে উইকেট হারালেও লক্ষ্যচ্যুত ছিল না। নাঈম শেখ রানের খাতা না খুলেই আউট হয়েছেন। তার পর রনি তালুকদার ও শামীম হোসেন ৩৯ বলে ৬১ রানের জুটিতে ধাক্কা সামাল দিয়েছেন। দারুণ ব্যাটিং করা রনি ১৭ বলে ২৯ রান করে আউট হলে শুরু হয় শামীম ঝড়। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া এই ব্যাটার শুরু থেকে দুর্দান্ত ছিলেন। তার ৭১ রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই জয়ের ভিত পায় রংপুর। শামীম ৫১ বলে ৪ চার ও ৪ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। 

তবে শামীমের ফেরার পর নুরুল হাসান (১৮), নিকোলাস পুরান (৫) ও ডোয়াইন ব্রাভো (২) দ্রুত বিদায় নিলে পরাজয়ের শঙ্কাও উঁকি দিতে থাকে রংপুর শিবিরে। কিন্তু দাসুন শানাকা ও মেহেদী হাসান সপ্তম উইকেটে ২১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। শানাকা ১২ বলে ১৫ এবং মেহেদী ৯ বলে ১৮ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন। ৭১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। ফরচুন বরিশালের বোলারদের মধ্যে সাকিব আল হাসান, খালেদ আহমেদ ও কামরুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।  

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দলকে দারুণ শুরু এনে দেন বরিশালের দুই ওপেনার মিরাজ ও ফ্লেচার। তাদের অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতে ৪৬ রান সংগ্রহ করে সাকিব বাহিনী। তবে রাকিবুলের বলে ব্যক্তিগত ১২ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরতে হয় ক্যারিবীয় ওপেনারকে।

এলিমিনেটরের জন্য উড়িয়ে আনা ফ্লেচার ফিরে গেলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ঝড় তোলেন টাইগার অলরাউন্ডার মিরাজ। দলের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলেন ৬৯ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯ চার এবং এক ছক্কার মারে।

মিরাজের পর মাহমুদউল্লাহর ২১ বলে ৩৪ এবং করিম জানাতের ২৫ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের কার্যকরী ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানের পুঁজি পায় সাকিবের দল।