বিয়ের দিনই স্ত্রী–শাশুড়ি–শ্যালিকাকে হত্যা, এরপর আত্মহত্যা

বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। সবার হাসিখুশিতে চারদিকে উৎসবের আমেজ। এর মধ্যেই হঠাৎ অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে যান বর। পরে তিনি যখন ফেরেন, তখন হাতে বন্দুক। সেই বন্দুক দিয়ে গুলি করে একে একে হত্যা করেন নববধূ, শাশুড়ি (৬২) ও শ্যালিকাকে (৩৮)। এরপর নিজে করেন আত্মহত্যা।
এমন ‘অদ্ভুত’ ঘটনার সংবাদ সচরাচর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেই পাওয়া যায়। তবে এবারের ঘটনা ভারতে নয়, থাইল্যান্ডে। পুলিশের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বিয়ের বর দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক সেনা। তিনি একজন প্যারা–অ্যাথলেটও।
ওইদিন স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালিকাকে গুলি করার পাশাপাশি বিয়ের দুজন অতিথিকেও গুলি করেন চতুরঙ্গ সুকসুক নামের ২৯ বছর বয়সী ওই প্যারা–অ্যাথলেট। তবে একজন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
গত শনিবার থাইল্যান্ডের উত্তরপূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় ৪৪ বছর বয়সী কাঞ্চানা পাচুনথুয়েকের সঙ্গে বিয়ে হচ্ছিল সুকসুকের। পুলিশ বলছে, গুলি করার সময় চতুরঙ্গ সুকসুককে নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছিল। তবে ঠিক কি কারণে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা এখনো অজানা। গত বছরই ওই অস্ত্র ও গুলি কিনেছিলেন তিনি। আর এর লাইসেন্সও রয়েছে।
বিয়ের অতিথিদের বরাতে থাইল্যান্ডের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বলছে, বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় বর ও কনের মধ্যে একবার কথা কাটাকাটি হয়। তারা আরও জানান, দুজনের মধ্যে বয়সের ব্যবধান নিয়ে ‘চিন্তিত’ ছিলেন চতুরঙ্গ সুকসুক।
তবে পুলিশ বলছে, এই কারণে চতুরঙ্গ সুকসুক গুলি নাও করতে পারেন। বিয়ের আগে দুজন তিন বছর একসাথে থেকেছেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্যারা–অ্যাথলেট চতুরঙ্গ সুকসুক গত বছর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান প্যারা গেমসে সাঁতার বিভাগে রৌপ্য পদক পান। আগামী মাসেই থাইল্যান্ডে আরেকটি প্রতিযোগিতায় তাঁর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন চতুরঙ্গ সুকসুক। সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় এক সংঘাতে ডান পা হারিয়েছিলেন তিনি।